হোটেলের পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবলীগ নেতাকে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি

0
61
হোটেলের পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবলীগ নেতাকে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি

অনলাইন ডেস্কঃ হোটেলে খাবার বিল চাইলে জামাত-শিবিরের ক্যাডার বলে ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছেন আরএমপির একজন এসআই।

এতে তিনি ক্ষান্ত হয়নি, গালি গালাজসহ গুলি করে মারার ও হুমকি দিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। হুমকি দেয়া এসআই তৌফিক, সে রাজশাহী মহানগর পুলিশের চান্দ্রীমা থানার তালাইমারি ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত।

ভুক্তভোগী রাজশাহী মহানগর ২৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি পলাশ জানান, তালাইমারি ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই তৌফিক তার ভদ্রা হজের মোড়স্থ পলাশ হোটেল এ্যন্ড রেস্টুরেন্টে প্রায় নাস্তাকরে বিল না দিয়েই চলে যায়।

একই ভাবে ২৬ মার্চ কয়েকজন পুলিশসহ নাস্তা করে হোটেলে বিল না দিয়ে যাবার সময় তার নিকট বিল চাইলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং বলে এই বেটা আমাকে চিনিস? সময় হলে বুঝবি কার এলাকায় দোকান করিস এবং দেখে নিবো বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষন পরে তিনি দুপুরে তাকে মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে কাজটা ভালো করোনি। বাচ্চু কি করে তাকেও দেখে নিবো কতো বড় নেতা হয়েছিস তোরা। লিটন না ডাব্লু তোদের নেতা, তাদের গোনার সময় নাই আমি মাগুরার পোলা, কত নেতারে সাইজ করলাম, তোরা তো পাতি নেতা। আমার অনেক উপরে হাত আছে, পুলিশের সাথে লাগোনা খবর আছে সহ নানা হুমকি দেয়।(অডিও শুনতে লিঙ্কে ক্লিক করুন)

পুনরায় সন্ধায় তাকে এসআই তৌফিক মোবাইল করে বলে তোর ভাড়াটিয়ার এনআইডি সহ বায়োডাটা দিয়ে যান, তা নাহলে জামায়াত শিবিরের ক্যাডার সাজিয়ে আটক করার হুমকি দেন । (অডিও শুনতে লিঙ্কে ক্লিক করুন)

তিনি আরো বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষনিক মৌখিকভাবে বোয়ালিয়া জোনের ডিসিকে জানালেও ঐ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তৌফিক চন্দ্রিমা থানায় যোগদান থেকেই আইনের পোশাকে বেআইনি কাজ করে আসছে। নিরিহ মানুষজনকে মাদক দিয়ে ফাঁসানো, অসাদাচারন, ফুটপাতের দোকানে চাঁদা আদায়সহ নানা অপকর্ম করে আসছে। হয়রানির ভয়ে কেউ এর প্রতিবাদ করতে সাহস করেনা।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীন এই দলে স্বাধীনতার পক্ষের সরকার ক্ষমতায়। আর আমরা স্বাধীনতার পক্ষের অগ্রণী সৈনিক। আমাদের কে জামায়াতের ক্যাডার বানিয়ে হয়রানির হুমকি দেয়। তাহলে সাধারণ মানুষের সাথে কেমন আচরণ করে, তা সবার অনুমেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভদ্রা মোড়ের একাধিক দোকানদার বলেন, “এসআই তৌফিক আসার পরে তাদের ব্যবসা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। কথায় কথায় গালি-গালাজ, দোকানের সওদা নিয়ে দাম কম দেয়া, কখনো টাকাও দেয়না। টাকা চাইলে দোকান তুলে দেওয়ার হুমকি ও মাদক দিয়ে চালান দেওয়ার হুমকি দেন।”

২৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তার আহম্মেদ বাচ্চু বলেন, একজন পুলিশ অফিসারের এমন আচরণ সত্যি দুঃখজনক। ঘটনাটি জানার পর আমি পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে আমার সাথেও অসাদাচারন করেন। তদন্ত সাপেক্ষ তিনিও এই পুলিশ কর্মকর্তার বিচার চান। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে, ব্যবস্থা না নিলে তার অত্যাচারের শিকার স্থানীয়দের নিয়ে মানববন্ধন করবেন বলেও জানান এই আওয়ামী লীগ নেতা।

এছাড়াও পুলিশ কমিশনার বরাবর তৌফিকের কর্মকান্ড তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য এসআই তৌফিক এর ০১৭২১৭৫৭৯৭২ মোবাইল নাম্বারে কল করা হলে তিনি সাংবাদিক দের সাথে কথা বলবেন না বলে মোবাইল কেটে দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here