পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে পুত্রবধূ করলেন শিক্ষিকা!

0
36
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে পুত্রবধূ করলেন শিক্ষিকা!

অনলাইন ডেস্কঃ চুয়াডাঙ্গায় নিজ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পুত্রবধূ করে ঘরে তুলেছেন এক শিক্ষিকা। বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এ নিয়ে এলাকায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।

রোববার (২০ মার্চ) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই গ্রামের শামসুন নাহার বর্তমানে বেগমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে পুত্রবধূ করলেন শিক্ষিকা!
বেগমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

জানা গেছে, তিনি তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আবদুর রহমানের সঙ্গে নিজ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন আক্তারকে বিয়ে দিয়ে ঘরে তুলেছেন। প্রথম কয়েকদিন বিষয়টি গোপন থাকলেও ছেলে আবদুর রহমান নববধূকে নিয়ে ঘটা করে পাশের ছোটশলুয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এলে তা জানাজানি হয়ে যায়। এ নিয়ে সচেতন মহলে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের ছোটশলুয়া গ্রামের দিনমজুর অশোক আলীর মেয়ে শারমীন আক্তার (১১) বেগমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শামসুন নাহার তার ছেলে বেগমপুর-যদুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র আবদুর রহমানকে ২০ মার্চ শারমিনের সঙ্গে বিয়ে দেন।

বেগমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়, হাতে মেহেদির রং নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করছে শারমিন আক্তার। বিয়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে অকপটে স্বীকারে করে বলে, ‘গত এক সপ্তাহ আগে ম্যাডামের ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। বর্তমানে সে (আমার স্বামী) আমাদের বাড়িতে আছে। আমি বাড়িতে এসে স্কুলে ক্লাস করছি।’

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে পুত্রবধূ করলেন শিক্ষিকা!

অভিযুক্ত শিক্ষিকা শামসুন নাহার বলেন, ‘আমার মায়ের খুব শরীর খারাপ। মায়ের ইচ্ছা নাতি ছেলের বউ দেখার। মূলত মায়ের ইচ্ছা পূরণ করার জন্যই তিনি ছেলের সঙ্গে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে দিয়েছেন। তবে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়নি। বেগমপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ইউনিয়ন কাজী মফিজুল ইসলাম ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে পড়িয়েছেন।’

বিয়ের কাজী মফিজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো বিয়ে তিনি পড়াননি। তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

স্থানীয় বেগমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলী হোসেন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘বেগমপুর ইউনিয়নকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ বদ্ধপরিকর। একজন স্কুলশিক্ষিকা কীভাবে এ ধরনের কাজ করতে পারেন তা আমার বুঝে আসে না।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে পারিবারিক আদালতে মামলা করতে হবে। আর এই বিষয়টি আমাদের দেখার দায়িত্ব নয়।’

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম ভূঁইয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ঘটনার সত্যতা পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here