বাবার নামে মাজার, আড়ালে মাদকের কারবার!

0
23
বাবার নামে মাজার, আড়ালে মাদকের কারবার!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মো. আব্দুল্লাহ মনির ওরফে পিচ্চি মনির মাদকের কারবার চালিয়ে যাবার জন্য বাবার নামে খুলেছেন ‘চাতক শাহ মাজার’। এ মাজারের আড়ালে চালিয়ে যেতো রমরমা মাদকের কারবার। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ভাড়াটিয়া ছদ্মবেশে মাদকের গোপন কারবার করত সে। গতকাল (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকার মধুবাজারের একটি ফ্ল্যাট থেকে পিচ্চি মনির ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-২।

এসময় তাদের থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, ১২ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৮,৭৭০ পিস ইয়াবা, ৬ গ্রাম আইস এবং মাদক বেচার নগদ ৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) কাওরান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকার মধুবাজারের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান করে মাদক কারবারের অন্যতম হোতা আব্দুল্লাহ মনির ওরফে পিচ্চি মনিরকে বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত মনির মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, এই পিচ্চি মনিরের পরিবার জীবিকার জন্য ১৯৯৫ সালে ঢাকায় আসে এবং লালবাগের শহীদ নগরে বসবাস শুরু করে। মনিরের পিতা জীবিকা নির্বাহের জন্য ফলের ব্যবসা শুরু করেন। মনির তাকে সহযোগিতা করত। এক সময় মনির এলাকার বখাটে ছেলেদের সাথে চুরি, ছিনতাই ইত্যাদি অপরাধের মাধ্যমে তার অপরাধ জগৎ এ হাতেখড়ি দেয়। ধীরে ধীরে সে এলাকার বখাটেদের নিয়ে লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় একটি অপরাধ চক্র গড়ে তোলে। এই চক্রটি ব্যবহার করে সে মাদক কারবার শুরু করে।

তিনি আরো বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মনির র‌্যাবকে জানায়, সে ২০১২ সাল থেকে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় তার বন্ধুর সাথে পার্টনারশীপে মাদকের কারবার করে। প্রথমে স্থানীয় মাদক ডিলারদের কাছ থেকে অল্প অল্প করে মাদক কেনে পরে খুচরা মাদক সেবকদের নিকট বেচত। ২০১৬ সালে কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে তার মাদক নেটওয়ার্ক তৈরি করে। এরপর টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে নিয়মিত মাদক ইয়াবা সরবরাহ করত। মাঝে মধ্যে সে ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঢাকা থেকে কক্সবাজার গমন করে মাদকের চালান নিয়ে আসত। মূলত তারা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করত। শতকরা ২০ শতাংশ হারে এ্যাডভান্স পেমেন্টে এর মাধ্যমে ইয়াবা ঢাকায় চলে আসত।

র্যাব জানায়, মাদকের ডেলিভারী ও লেনদেন গ্রেফতাকৃত মনিরের ভাড়া বাসায় বা সুবিধামত স্থানে সম্পন্ন হত। গ্রেফতারকৃত মনির ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় ভাড়াটিয়া ছদ্মবেশে মাদকের গোপন কারবার করত। সে প্রতিমাসে কয়েকটি চালান টেকনাফ, কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসত। এবং মিরপুর-১৩, ইসলামবাগ, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, আজিমপুরসহ আরও কয়েকজন খুচরা ভাবে মাদক সরবরাহ করত। প্রত্যেক খুচরা কারবারিদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মোবাইল ফোন ব্যবহার করত।

কমান্ডার মইন বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মোহাম্মদপুর থানার হাতিরপুল এলাকার তার ২য় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া করা বাসা থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়। সে এক একটি এলাকায় এক-দুই বছরের বেশি অবস্থান করত না।

র্যাব কমান্ডার আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত মনির নিজ বাড়িতে কোটি টাকার স্থাপনা নির্মাণ করেছে। সে তার বাবার কৃতি সন্তান তা জনসাধারণকে জানানোর উদ্দেশ্যে এবং এলাকায় প্রচারের উদ্দেশ্যে সে মাদক কারবারির অবৈধ টাকা দিয়ে তার বাবার কবরে একটি মাজার নির্মাণ করেছে।

র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃত মনির ২০১৮ সাল হতে অস্ত্র ব্যবসা শুরু করে। সে ২০১৮ সালে অবৈধ পিস্তলসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয় এবং ৭ মাস কারা অন্তরীণ ছিল। পরবর্তীতে সে ২০২০ সালে অস্ত্র ও মাদক মামলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। এ সময় সে ১ বছর কারাগারে থাকেন। তার নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত সর্বমোট ৩টি মামলা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here