ফেন্সিডিল দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসালেন এসআই আমিনুল

0
293
ফেন্সিডিল দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসালেন এসআই আমিনুল
এসআই আমিনুল ও এএসআই আলমগীর।

অনলাইন ডেস্কঃ গত ২১/১/২২ ইং গভীর রাত্রে ১১:৪৫ মিনিটে মতিহার থানার এসআই আমিনুল, এএসআই আলমগীর ও কন্সটেবল হানিফ মতিহার থানাধীন খোঁজাপুর এলাকা থেকে ৩টি বস্তায় আনুমানিক ৩৫০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে পরবর্তীতে ১টি বস্তায় সম্পূর্ণ ৩৫০বোতল ফেন্সিডিল একত্রে করে মোটর সাইকেল যোগে থানায় চলে যায় এসআই আমিনুল ও তাঁর সাথে থাকা এএসআই, কনস্টেবল। যার ভিডিওটি এখন রাজশাহীর সাংবাদিকদের হাতে।

থানায় যাওয়ার পর পরবর্তী দিন ২২/১/২২ ইং তারিখ বিকাল ৩:৪০ ঘটিকায় মাত্র ৫০ বোতল ফেন্সিডিল দিয়ে মতিহার এলাকার পারভেজের দ্বিতীয় সন্তান দ্বিপু(৩০) এবং ঐ দিন রাজশাহীতে না থাকা আইয়ুব আলী(৪০)কে প্রধান পলাতক আসামী করে মামলা রুজু করেন এসআই আমিনুল।

বিষয়টি জানাজানি হলে উক্ত মামলার দ্বিতীয় আসামী লিখিত ভাবে বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান সহ রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার ও সকল সংবাদপত্রের সম্পাদক বরাবর লিখিতভাবে মতিহারের এসআই আমিনুল ও এএসআই আলমগীর এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের বাদি মামলার দ্বিতীয় আসামী আইয়ুব আলী লিখিত ভাবে জানান,”গত ২০/১/২০ ইং তারিখ থেকে চিত্তবিনোদনের জন্য সে কক্সবাজার অবস্থান করছিলো, যার এয়ারলাইনের টিকিট ও রিসোর্টের ডকুমেন্ট সাবমিট করেন। এবং গত ২২/১/২২ ইং বিকালে সে রাজশাহীতে এসে জানতে পারে তাঁর নামে মাদক মামলা হয়েছে।

“সে প্রতিবেদক কে আরো জানায়” প্রয়োজনে আমার মোবাইল ফোনের কল লিস্ট চেক করে আমার অবস্থান সম্পর্কে তদন্ত করুক পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ দোষী এসআই আমিনুল ও এএসআই আলমগীর এর তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

আমি কখনো মাদকের ব্যবসা করিনি এবং মাদক গ্রহণও করি না। আমার অনুপস্থিতি তে আমার বাবা, মা ও বৌকে ১লক্ষ২০হাজার টাকা দাবি করে এসআই আমিনুল, এএসআই আলমগীর ও কনস্টেবল হানিফ। বার বার তাঁরা বলে যদি টাকা না দিই ওসি স্যারকে তাহলে ওসি স্যার আমাকে পঙ্গুকরে দিবে মেরে।
বাসায় এসে জানতে পারি এ সব ঘটনা। পরবর্তীতে লোকে বলাবলি করলে জানি টাকা না দেয়ায় এসআই আমিনুল ও এএসআই আলমগীর মিথ্যা পলাতক মামলা দিয়েছে।

প্রতিবেদনটি লেখার সময় আরো জানা যায় উদ্ধারকৃত অবশিষ্ট আনুমানিক ৩০০ বোতল ফেন্সিডিল এসআই আমিনুল ও এএসআই আলমগীর এর নির্দেশে মতিহার এলাকার মাদক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রী করে দেন।

এর পূর্বেও ডিবিতে থাকাকালীন এসআই আমিনুল বোয়ালিয়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী লিজার নিকট ইয়াবা বিক্রী করেন। এঘটনায় তৎকালীন ডিবির এএসআই পলাশ সাসপেন্ড হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন আমিনুল।
নিজে বাঁচার জন্য তাঁর মাইক্রো গাড়ী বিক্রী করেন ট্রাফিকে কর্মরত কন্সটেবল রিপন এর নিকট। এ অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করেন আরএমপির উর্ধতন কর্মকর্তাদের আমিনুল। এছারাও এএসআই আলমগীর সম্প্রতি দামকুড়া থানায় থাকাকালীন ১০০গ্রাম হিরোইন ধরে নিজেই বিক্রী করেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে এ অর্থ দিয়ে নিজেও ক্রয় করেন প্রাইভেটকার যা দিয়ে সে এখন রেন্ট র ব্যবসা করেন।

এ ঘটনায় ওসি/মতিহার কে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যা মাল পাওয়া গেছে তাই দিয়ে মামলা দেওয়া হয়ছে। ওসি মতিহার এর কাছে জানতে চাওয়া হয় ৫০ টা ফেন্সিডিল এর খুতি কত বড় হয়। আর ৩শোর অধিক হলে কত বড় হবে। এটা সাধারণ ভাবে মোটামুটি ধারনা করতে পারি। এএসআই আলমগীর মোটরসাইকেল করে যত বড় খুতি নিয়ে যাচ্ছে তাতে আনুমানিক ৩ শো র বেশি ফেন্সিডিল থাকতে পারে বলে ধারনা করছি। পরক্ষনে ওসি বলেন ৫০ কেজির খুঁতিতে কতটা আটে ২৫ কেজির খুঁতি তে কতটা আটবে ধারনা করা যায়।

এসআই আমিনুলকে মুঠোফোনে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি, তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এএসআই আলমগীরের ফোনে কল দিলে আলমগীর কোন কথা বলতে চাননি। তিনি বার বার বলে ওসি স্যারের সাথে কথা বলেন, সাংবাদিক এর প্রশ্ন আপনি মোটরসাইকেল যোগে ফেন্সিডিল নিয়ে যাচ্ছেন। আপনি কথা না বললে কে বলবে। তিনি আবারও বলেন ওসি স্যারের সাথে কথা বলেন। এ বলে ফোন কেটে দেয়।

আইয়ুবের পরিবার নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাঁর সন্তানের মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচার প্রার্থনা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here